Saturday, May 28, 2022

নিরাপত্তা হীনতা আর থাকবে না। পড়ুন লখাটি।

❒ বিমানে আপনি নিশ্চিন্তে বসে থাকেন যদিও পাইলটকে আপনি চিনেন না।

❒ আপনি রেলগাড়িতে আরামে বসে থাকেন যদিও রেলচালককে চিনেন না।

❒ আপনি বাসে আয়েশি করে বসে থাকেন যদিও বাস চালককে চিনেন না।

❒ তাহলে কেন আপনি আপনার জীবন নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকছেন না,রিজিক নিয়ে এত পেরেশান কেন,কিছু পাওয়া না পাওয়া নিয়ে এতো আক্ষেপ কেন? যখন আমরা জানি আল্লাহই এর নিয়ন্ত্রক?

❒ আল্লাহর উপর ভরসা করুন। তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী❤️

■ মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা  বলেন,
‎وَاللّٰهُ خَيۡرُ الۡمٰكِرِيۡنَ

“আর আল্লাহই উত্তম পরিকল্পনাকারী।” [আলে ইমরানঃ৫৩]

Friday, May 27, 2022

কথা বলার আদব

আশেপাশে আমরা এমন অনেক মানুষ আছি, যারা বুক ফুলিয়ে বলি, 
"আমি উচিৎ কথা বলতে কাউকে ছাড়ি না!"
"আমি উচিৎ কথা মুখের উপর বলে দেই"

হ্যা, আমি আপনি অনেক স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড! 
যা মনে আসে তাই বলি! গালাগাল সহ সরাসরি মুখের উপর সব বলে দেই! সব মহলে ঠোটকাটা স্বভাবের হিসেবে পরিচিত আমরা!  

সবাইকে একদম সামনেই ধুয়ে দেই এবং এটা নিয়ে আপনার আমার বেশ গর্বও! 
প্রিয় ভাইয়েরা, ইসলাম ধর্মে এটাকেই "লুমাযাহ" বলা হয় । 

যে ব্যক্তি:
★ সরাসরি কাউকে লাঞ্চিত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। 
★ কাউকে তাচ্ছিল্য ভরে কোনকিছু নির্দেশ করে (আঙুল,চোখ, মাথা বা ভ্রু দ্বারা)
★ কারও অবস্থান বা পদবি নিয়ে তাকে ব্যাঙ্গ করে। 
★ কারো বংশের নিন্দা করে বা বংশ নিয়ে কথা বলে। 
★ কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলে, অপমান করে। 
★ কারও মুখের উপর তার সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করে। 
★ সরাসরি বাজে কথা দিয়ে কাউকে আঘাত করে। 
★ কাউকে এমন কোনো কথা বললো যাতে আরেকজন কষ্ট পাবে।
★ অসন্মান করে কথা বললো।

উপরোক্ত ব্যাক্তিরাই মূলতঃ  "লুমাযাহ" এর অন্তর্ভুক্ত।

আল্লাহ্‌ তায়ালা এই মানুষদেরকে পরিবর্তন হতে বলেছেন। নয়তো তাদের জন্য অনিবার্য ধ্বংসের সতর্ক বাণী দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের প্রতি কঠোর লানতও করেছেন। 

আল্লাহ্‌ কোরআনে বলেন, وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ  বাংলা উচ্চারণ, ওয়াই লুল্লি কুল্লি হুমাজাতিল লুমাযাহ। অর্থ, প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ। রেফারেন্স - সূরাতুল হুমাযাহ, আয়াত ১। 

আল্লাহ্‌র নবী, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যার মধ্যে নম্রতা নেই, সে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত"।

আমাদের লুমাযাহ নিয়ে ভাবা উচিৎ ভাই। 
আসুন, আমরা একটু নরম হই, একটু সহনশীল হই, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করি। 

মনে রাখি- আল্লাহ যাকে নম্রতা দিয়েছেন, তিনি দুনিয়ার সেরা নেয়ামত পেয়ে গেছেন। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমীন।

সংগৃহীত ও ঈষৎ সম্পাদিত।

হে আল্লাহ আমাদের হিসাব সহজ করে দাও

কলেজে থাকতে এক বন্ধুর কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়েছিলেন। পরে আর শোধ করেননি, সে বন্ধুও ক্ষমা করেনি।
.
আজ একযুগ পেরিয়ে গেলো।কারও কিছু মনেই নেই। কিন্তু 
একদিন সে আপনার সামনে ক্ষমাহীন দাবী নিয়ে আসবে। আপনি বড্ড রকমের অবাক হয়ে যাবেন।
.
দশজনে মিলে টাকা তুলে পার্টি দিলেন। আপনি ক্যাশিয়ার। খরচাদি শেষে দু'টাকা রয়ে গেল পকেটে। তখনই ক্লিয়ার করুন।
নাহলে ভাগের বিশ পয়সা একদিন ওরা চাইবে।
.
আর ধন-সম্পদ, জমি-জমা, জনগণের রিলিফের চাল-আটা, রাস্তার টাকা, বয়স্কভাতা, জাতীর টাকা মেরে দেওয়ার বিষয়তো অনেক অনেক উপরে।
.
পথে একটা মেয়ের দিকে নজর পড়লো। মুহূর্তেই আল্লাহর ভয়ে চোখ নামিয়ে নিলেন। কিন্তু শয়তান আপনাকে আবার তাকাতে বাধ্য করলো। ভালো লাগলো।
আবার কয়েক সেকেন্ড দেখলেন। 
.
পরেরবার আপনার পক্ষে নয়।
এই কয়েক সেকেন্ডও পাপের খাতায় লিখা হবে।
.
পরের কয়েক সেকেন্ড কে গুনাহ্ মনে করে ক্ষমা চেয়েছেন কখনো রব্বে কারীমের কাছে?
.
পথে হাটঁছেন। হঠাৎ একটা কুত্তা দেখে হুদ্দাই একটা ইট নিয়ে মেরে দিলেন। কুত্তা ব্যথা পেল, এতে কার কি?
ডাজন্ট ম্যাটার।
.
এটারও পরিপূর্ণ বদলা নেয়া হবে।
.
অপেক্ষায় থাকা কাউকে ফোন কলে বললেন এইতো বেরিয়েছি, অথচ আপনি বেরুননি। এটা মিথ্যা। 
পাপ লিখা হবে। লঘু নয়, গুরুতর।
.
এইতো কাঁচা আমের সিজন।
মন চাইলো আর ঢিল মেরে নিয়ে গেলেন। মালিকের অনুমতি ছিলোনা। এর মূল্য চুকাতে হবে। চড়া মূল্য। 
.
গ্রামের বাড়িতে আম-জাম, কাঁঠাল চুরি, শসা ক্ষীরা, তরমুজ এগুলো চুরি করে খেয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিন। একেবারেই মালিককে পাওয়া সম্ভব না হলে তার নামে সদাকা করুন, তার জন্য দোয়া করুন আল্লাহর কাছে এবং এর গুনাহ্ থেকে ক্ষমা চান।
.
একজন নেতা টাইপ লোককে দেখে সালাম দিলাম। 
তারপর রিক্সাওয়ালা গেলেন।সালাম দিলাম না। মনে ভাব হয়েছিল,
'আরে একে কি সালাম দিব!'
.
অথবা বাচ্চা, দারোয়ান, কুলি টাইপ কেউ সালাম দিলো, সালামটা নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলাম না।
.
বিচারের ময়দানে এগুলো মোটাদাগে জিজ্ঞেস করা হবে।
.
টালী খাতা আছে।
সদা সর্বদা প্রস্তুত লেখকদ্বয় আছেন।
লিখে রাখছেন সব।
.
একদিন পেশ করা হবে।
আমরা প্রচুর অবাক হবে বলবো,
.
‎ مَالِ هَٰذَا ٱلْكِتَٰبِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّآ أَحْصَىٰهَا
.
এ কেমন হিসাব নামা?
ছোট থেকে বড় কিছুই যে ছাড়া হলোনা![সূরা কাহফ: ৪৯]
.
তাই হিসাব সহজের জন্য দোয়া করা আমাদের দায়িত্ব, কারন হিসাব মিলানো আমাদের দারা অসম্ভব !

‎"اللهم حاسبني حسابا يسيرا"
হে মালিক!
আমার হিসাবকে সহজ করে নিয়েন।
( সংগৃহীত) 

Wednesday, May 25, 2022

কোথায় কীভাবে পাবেন জমির এই উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্ট?

কোথায় কীভাবে পাবেন জমির এই উল্লেখযোগ্য ডকুমেন্ট?
➥১. পর্চা বা খতিয়ান। 
➥২. দলিল। 
➥৩. ম্যাপ বা নকশা।
এই ডকুমেন্টগুলো ছাড়া আপনি জমি বিক্রয়, হস্তান্তর অথবা ব্যাংক লোন হতে নানান সমস্যা হয়।
সেকারণে, জমির খতিয়ান, দলিলসহ সকল কাগজপত্র সংগ্রহে রাখার জন্য সরকারি নানান দপ্তর রয়েছে, যারা ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখে। এখন আপনার কাজ হল, ঐ সকল দপ্তরগুলো কে নিশ্চিত করে তাদের শরণাপন্ন হওয়া ও কাগজপত্র গুলো সংগ্রহ করা।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো, কোথায়, কীভাবে এবং কত সময়ের ভেতরে আপনি জমির খতিয়ান, দলিল ও নকশা সংগ্রহ করবেন।
➥প্রথমত,আপনার জমির খতিয়ান বা পর্চা কোথায় পাবেন.?
জমির পর্চা বা খতিয়ান মূলত চারটি অফিসে পাবেন। তা হলো,
১/ইউনিয়ন ভূমি অফিস।
২/উপজেলা ভূমি অফিস।
৩/জেলা ডিসি অফিস।
৪/সেটেলমেন্ট অফিস।

➤ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা তহশিল অফিস। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যদিও খতিয়ান বা পর্চার বালাম বহি থাকে কিন্তু আপনি এই অফিসে হতে খতিয়ানের কপি নিতে পারবেন না। ইউনিয়ন ভূমি অফিস হতে শুধু খসরা খতিয়ান নিতে পারবেন যেটা আইনত কোন মূল্য নেই তারপরেও এই অফিসটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনার জমির খতিয়ান নাম্বার জানা না থাকলে এই অফিস থেকে জেনে নিতে পারবেন এছাড়া জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর এই অফিসে দিতে হয়।

➤উপজেলা ভূমি অফিস
যদিও উপজেলা ভূমি অফিসের মূল কাজ নামজারী বা খারিজ বা মিউটেশন করা তবে খসরা খতিয়ান তুলতে পারবেন। এই অফিস হতেও খতিয়ানের সার্টিফাইড পর্চা বা কোর্ট পর্চা তুলতে পারবেন না।

➤জেলা ডিসি অফিস
এই অফিস হতে পর্চা বা খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব সর্বাধিক। সব জায়গায় এই অফিসের খতিয়ান এর গুরুত্ব রয়েছে।

➤সেটেলমেন্ট অফিস
শুধুমাত্র নতুন রেকর্ড বা জরিপের পর্চা / খতিয়ান এই অফিস হতে সংগ্রহ করা যাবে।
পাশাপাশি নতুন রেকর্ড এর ম্যাপ ও সংগ্রহ করা যায়।
❖প্রশ্নঃ খতিয়ান তুলতে কত টাকা লাগবে.?
উত্তরঃ সি এস, এস এ, আর এস, এর জন্য কত টাকা দিতে হবে তা নির্ভর করে ঐ স্থানের সিন্ডিকেটের উপর। তবে সিটি জরিপের জন্য 100 টাকা খরচ হবে।
➥দ্বিতীয়ত, আপনার জমির দলিল বা বায়া দলিল কোথায় পাবেন?
দলিল বা দলিল এর সার্টিফাইড কপি বা নকল মূলত দুটি অফিস হতে সংগ্রহ করা যায়, তা হলো।
১/উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।
২/জেলা রেজিস্ট্রি বা সদর রেকর্ড রুম অফিস।

➤উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস
যেখানে নতুন দলিল রেজিস্ট্রেশন করা হয় এই অফিস হতে নতুন দলিলের নকল ও মূল দলিল পাওয়া যায়। কিন্তু পুরাতন দলিল বা বায়া দলিল এই অফিসে পাওয়া যায় না।

➤জেলা রেজিস্ট্রি অফিস বা সদর রেকর্ড রুম।
এই অফিসে নতুন বা পুরাতন দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল পাওয়া যায়। 
❖ প্রশ্নঃ দলিল তুলতে কত টাকা খরচ হয়.?
উত্তরঃ সরকারি খরচ যদিও সামান্য কিন্তু নকলের খরচ নির্ভর করে ঐ স্থানের সিন্ডিকেটের উপর।
➥ আপনার জমির মৌজা ম্যাপ বা নকশা কোথায় পাবেন?
সাধারণত ম্যাপ বা নকশা দুইটি অফিসে পাবেন, তা হলো
১/জেলা ডিসি অফিস
২/ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ( DLR) অফিস, ঢাকা।

➤জেলা ডিসি অফিস:
এই অফিস হতে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস যেকোনো মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করা যাবে।
সংগ্রহ করতে যা লাগবে আবেদন ফরম + 20 টাকার কোর্ট ফি এবং 500 টাকা নগদ জমা বাবদ বা ডি.সি.আর বাবদ। অর্থাৎ 530 টাকায় মৌজা ম্যাপ তুলতে পারবেন।

➤ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, (তেজগাঁও সাতরাস্তার মোড়), ঢাকা।
সারা বাংলাদেশের যে কোনো মৌজা ম্যাপ সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, জেলা ম্যাপ, বাংলাদেশ ম্যাপ উক্ত অফিস হতে তুলতে পারবেন।
এই অফিসের ম্যাপের গ্রহণযোগ্যতা ও অনেক বেশি। সারা বাংলাদেশের যে কোন ম্যাপ এই অফিসে পাওয়া যায়। ম্যাপ তুলতে খরচ আবেদন ফরম + কোর্ট ফি + ডি.সি.আর মোট= ৫৫০/= টাকা মাত্র।

❖প্রশ্নঃ ম্যপ তুলতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তরঃ আবেদন করার দিন হতে, ৫-৮ কার্য দিবসের ভিতরে ম্যাপ সরবরাহ করা হয়।