Tuesday, September 28, 2021

হিন্দু আইনে দান কি?


দান হলো এমন এক ধরনের হস্তান্তর
পদ্ধতি যার মাধ্যমে স্বীয়
মালিকানা স্বত্বের অবসান ঘটায়
এবং অন্য ব্যক্তির
বরাবরে মালিকানা স্বত্ব সৃষ্টি করে।
দানসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য
কোনরকম পণের প্রয়োজন হয়
না এবং যার বরাবরে দান
সৃষ্টি করা হয়
সে দানের বিষয়বস্ত গ্রহণ করার
সাথে সাথেই দান কাজ সম্পন্ন হয়।
দান
হস্তান্তর
করে যে ব্যক্তি তাকে দাতা এবং দান
গ্রহণ করে যে ব্যক্তি তাকে দান
গ্রহীতা বলা হয়। স্থাবর বা অস্থাবর
উভয় প্রকার সম্পত্তি দান
করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ঐ
সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায়
এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়।
এভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান
বলা যেতে পারে।
দানের শ্রেণীবিভাগ: হিন্দু
সংহিতা ও নিবন্ধসমুহে চার ধরনের
দানের কথা ভলা হয়েছে।
এগুলো হচ্ছে ১) সঠিক দান ২) অনুচিত
দান ৩) বৈধ দান ও অবৈধ দান।
দাতা যদি তার নিজের
সম্পত্তি এবং এধরনের দান নিষিদ্ধ
না হলে কাকে সঠিক দান বলে।
দাতা যাদের ভরণ-পোষণ
করতে বাধ্য
তাদের ভরণ-পোষণের জন্য
প্রয়োজনীয়
সম্পত্তি রেখে অতিরিক্ত
সম্পত্তি সঠিকভাবে দান
করতে পারে।
পক্ষান্তরে দানের বিষয়বস্ত দাতার
নিজস্ব সম্পত্তি না হলে কিংবা দান
করা নিষিদ্ধ হওয়া স্বত্বেও
দাতা কোন সম্পত্তি দান
করলে তা অনুচিত দান বলে গন্য হবে।
কোন সুস্থ মস্তিষ্কের লোক
আইনগতভাবে দান করলে এবং দানের
বিষয়বস্ত পুর্ণগ্রহণযোগ্য
না হলে অর্থাত্ দান
অপ্রত্যাহারযোগ্য হলে বৈধ দান
হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে যে দান পুর্ণগ্রহণঅযোগ্য
তা অবৈধ দান। অবৈধ দান
আইনগতভাবে সম্পন্ন হয়
না এবং একে যে কোন সময়
প্রত্যাহার
করা যায়। উদাহরণ স্বরূপ, মাতাল
বা অপ্রকৃতিস্থ লোক কোন কিছু
দান
করলে তা অবৈধ হবে ৷
কোন কোন
সম্পত্তি দানসূত্রে হস্তান্তর করা যায়:
১) হিন্দু আইনের সব মতবাদ অনুসারে,
একজন হিন্দু ব্যক্তি যাদেরকে ভরণ-
পোষণ করতে আইনগতভাবে বাধ্য
তাদের দাবী-দাওয়া তার পৃথক
বা স্ব-
উপাজিত সম্পত্তি দানসূত্রে হস্তান্তর
করতে পারে।
২) দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে, কোন
সহ-
অংশীদার নিকটতম আত্নীয়-স্বজনের
আইনগত ভরণ-পোষণের
দাবী সাপেক্ষে তার সহ-
অংশীদারী স্বত্ব দান করতে পারে।
৩) দায়ভাগ
আইনে পিতা যাদেরকে ভরণ-পোষণ
করতে আইনগতভাবে বাধ্য তাদের
দাবী সাপেক্ষে তার পৈত্রিক
বা স্ব-
উপাজির্ত সম্পত্তি দান করতে পার ৷
৪) কিছু ক্ষেত্রে স্বামীর
সম্মতি নিয়ে একজন হিন্দু মহিলা তার
স্ত্রীধন উইল কিংবা দানের
মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারেন ৷
একজন
স্ত্রীধনের অধিকারিণী তার
স্ত্রীধন
অন্যদেরকে দান করে দিতে পারে,
তবে স্বামীর জীবদ্দশায় অর্জিত
কতিপয়
স্ত্রীধন দান করতে গেলে স্বামীর
অনুমতির প্রয়োজন হবে।
৫) একজন বিধবা আইনগত
প্রয়োজনে বা ধর্মীয়
উদ্দেশ্যে স্বামীর কাছ
থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত
সম্পত্তির একটি ক্ষুদ্র অংশ দান
করতে পারে ৷
৬) কোন প্রথা দ্বারা নিষিদ্ধ
না হলে অবিভাজ্য সম্পত্তির মালিক
তা দান কিংবা উইলের
মাধ্যমে হস্তান্তর করতে পারে ৷
৭) মৃত্যু পীড়াকালীন দান হিন্দু
আইনে স্বীকৃত। দান একবার
আইনতঃ সম্পন্ন হয়ে গেলে তা আর
প্রত্যাহার বা রদ করা যায় না।
তবে দান
গ্রহীতা যদি প্রতারনা মূলে অথবা অবৈধ
প্রতিপত্তি মূলে দানপত্র দলিল
হাসিল
করে থাকে তবে তা অবশ্য রদযোগ্য
হবে।
দাতা যদি দানপত্র দলিলে এরকম শর্ত
আরোপ করে থাকে যে দানকৃত
সম্পত্তি গ্রহীতা কোনদিন হস্তান্তর
অথবা বন্টন করতে পারবেনা,
তবে এসকল
শর্তের আইনত কোন মূল্য থাকব
না অর্থাত্ ‍শর্তহীন অবস্থায় দান বলবত্
থাকবে। কোন
পাওনাদেরকে ঠকাবার
উদ্দশ্যে দান করলে পাওনাদার
ইচ্ছা করলে আইনের সাহায্যে এই
ধরনের কৃত্রিম দান রদ করতে পারে।
কোন দাতা দানকৃত
সম্পত্তি হতে জীবিতকাল পযর্ন্ত কোন
উপস্বত্ব পাওয়ার শত রাখলে সেই শর্ত
সাপেক্ষে দান বৈধ হবে।
দানের নিয়ম ও প্রক্রিয়া
দান পণবিহীন
এবং স্বেচ্ছা প্রণোদিত হতে হবে।
কোন প্রকার
প্রতারণা বা জোরপূর্বক
দানের দলিল করে নেওয়া আইনানুগ
বাতিলযোগ্য। কোন স্থাবর
সম্পত্তি দান করতে হলে তা অবশ্যই
লিখিত হতে হবে এবং ১৮৮২সালের
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২৩ ধারার
বিধান অনুযায়ী অবশ্যই রেজিষ্ট্রীকৃত
দলিল দ্বারা সম্পাদন করতে হবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২ এর
ধারা ১২৩: কোন স্থাবর
সম্পত্তি দানকল্পে অবশ্যই
রেজিষ্ট্রীকৃত
দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর
কার্যকরী করতে হবে এবং উক্ত
দলিলে দানকর্তা কর্তৃক বা তার পক্ষ
হতে স্বাক্ষর
করতে হবে এবং অন্ততঃপক্ষে দুজন
সাক্ষী কর্তৃক তা সনাক্ত করাতে হবে।
কোন অস্থাবর সম্পত্তি দান
করতে হলে অনুরূপভাবে স্বাক্ষরিত
কোন রেজিষ্ট্রীকৃত দলিলের
মাধ্যমে বা উক্ত সম্পত্তি অর্পণ
করে হস্তান্তর কার্যকরী করতে হবে ৷
বিক্রীত জিনিস যেভাবে অর্পণ
করা হয়, অনুরূপভাবে উক্ত জিনিস অর্পন
করা যাবে।
দান গ্রহণ: দানের একটি অপরিহার্য শর্ত
হলো দান গ্রহণ। যার বরাবরে কোন
সম্পত্তি দান
করা হচ্ছে সে নিজে কিংবা তার
পক্ষে অন্য কাউকে তা গ্রহণ
করতে হবে।
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে, দাতা কর্তৃক
কোন সম্পত্তি প্রদত্ত হলেই দান সম্পূর্ণ
হয়ে যায়। অবশ্য দানগ্রহীতা দান
গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে দান
কার্যকর হয়না। ১৮৮২সালের
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের
১২২নং ধারা অনুযায়ী,
দানগ্রহীতাকে দাতার জীবদ্দশায়
এবং দান করতে সক্ষম অবস্থায় দান গ্রহন
করতে হবে। দান গ্রহণের আগেই
দানগ্রহীতা মৃত্যবরণ করলে উক্ত দান
বাতিল হয়ে য়ায়। হিন্দু আইনে দান
গ্রহণ
প্রকাশ্য কিংবা অনুমিত হলেই চলে।
তবে শর্তযুক্ত দানের ক্ষেত্রে হ্যাঁ-
বোধক সম্মতির মাধ্যমে দান গ্রহণ
করতে হয়। কারণ,
এক্ষেত্রে দানগ্রহীতা কর্তৃক
সংশ্লিষ্ট
শর্ত পূরণের উপর দানের ফলাফল
নির্ভরশীল।
দখল অর্পন: যদিও হিন্দু আইনের
অধীনে দান লিখিত হওয়ার কোন
আবশ্যকতা নেই কিন্ত দাতা কর্তৃক
দানের বিষয়বস্তর দখল
দানগ্রহীতাকে বুঝিয়ে না দিলে দান
বৈধ হয়না। দানের দলিল কেবল
রেজিষ্টার্ড বা নিবন্ধনকৃত হলেই
তা দখল অপর্ণের সমকক্ষ হয় না। কাজেই
দানের জন্য দাতার কাছ থেকে কেবল
সম্পত্তির স্বত্ব দানগ্রহীতার
বরাবরে অর্পিত হলেই যথেষ্ট হবেনা।
দানের বিষয়বস্ত যদি ইতিমধ্যে দান
গ্রহীতার দখলে থাকে,
তাহলে দাতা কর্তৃক দানের
ঘোষণা এবং গ্রহীতা কতৃক তা গৃহীত
হলেই দান সম্পন্ন হবে।
যে ক্ষেত্রে দানের বিষয়বস্তর দখল
প্রদান করা সম্ভব নয়,
সেক্ষত্রে গ্রহীতা যাতে গ্রহীতা
যাতে দখল পাওয়ার
অধিকারী হতে পারে সেজন্য দান
সম্পন্ন করার অভিপ্রায়ে দাতার
পক্ষে সম্ভবপর সব কাজ করাই দানের
বৈধতার জন্য যথেষ্ট হবে।
১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন,
সম্পত্তি দান সম্পকির্ত মূল হিন্দু আইন মূল
হিন্দু আইনে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে।
এই আইনের ১২৩ নং ধারার বিধান
অনুসারে, দানকে রেজিষ্ট্রীকৃত
দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন
করতে হবে এবং দলিলে অবশ্যই
দাতা বা তার পক্ষে অন্য কোন
ব্যক্তির স্বাক্ষর ও কমপক্ষে দুজন
স্বাক্ষীর
স্বাক্ষর থাকতে হবে। তবে অস্থাবর
সম্পত্তির ক্ষেত্রে দাতা ও দুজন
স্বাক্ষীর স্বাক্ষরযুক্ত রেজিষ্ট্রীকৃত
দলিলের
মাধ্যমে কিংবা সম্পত্তি দখল
হস্তান্তরের মাধ্যমে দান সম্পন্ন
করা যায়। সুতরাং সম্পত্তির হস্তান্তর
আইনের ১২৩ নং ধারায় বণির্ত বিধান
অনুসারে, দান সম্পন্ন করার জন্য
সম্পত্তির
দখল অর্পণের আর প্রয়োজন নেই; আবার
অস্থাবর সম্পত্তি ব্যতীত অন্যান্য
সম্পত্তির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র দখল অপর্ণই
দানের বৈধতার জন্য যথেষ্ট নয়।
অজাত ব্যক্তির বরাবরে দান:
মূল হিন্দু আইন অনুসারে, দানের সময়
অস্তিত্ব ছিল না এমন কোন ব্যক্তির
বরাবরে দান করা যায় না ৷অর্থাত্
অজাত ব্যক্তি বা জন্ম হয়নি এমন
ব্যক্তির
বরাবরে কোন সম্পত্তি দান
করা যায়না। অজাত ব্যক্তির
বরাবরে কোন সম্পত্তি দান
করা হলে তা অবৈধ হবে। এই
নীতিটি সবার প্রথমে ঠাকুর বনাম
ঠাকুর মামলায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
তবে যে সব ক্ষেত্রে ১৯১৪ সালের
হিন্দু
হস্তান্তর ও উইল আইন, ১৯১৬সালের হিন্দু
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন
এবং ১৯২১সালেরহিন্দু ও উইল
(মাদ্রাজা নগরী) আইন প্রযোজ্য নয়,
সেসব ক্ষেত্রে উক্ত
নীতিটি এখনো প্রযোজ্য হয়।
কিন্তু উপরোক্ত আইনগুলো প্রণয়নের
ফলে অজাত ব্যক্তির অনুকূলে দান
করার
ক্ষেত্রে আর কোন
বাধা থাকলো না।
দান করার সময় অস্তিত্ব নেই এমন
ব্যক্তির
বরাবরেও
বতর্মানে দানসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তর
করা যায়। আইন তিনটিতে বলা হয় যে,
১৮৮২সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের
দ্বিতীয় অধ্যায়ে বণির্ত
সীমাবদ্ধতা ও
হস্তান্তরসমূহ সাপেক্ষে কোন দান
অবৈধ হবে না কেবল এই কারণে যে,
যার হিতার্থ দান সম্পন্ন
হয়েছে দানের
সময় সে জন্ম গ্রহণ করেনি। তবে এই
নিয়মটি সার্বজনীনভাবে প্রযোজ্য
নয়; তা কিছু দান বা হস্তান্তরের
মধ্যে সীমাবদ্ধ।
১৮৮২সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের
দ্বিতীয় অধ্যায়ে বণিত
সীমাবদ্ধতা ও
বিধান অনুসারে পূববর্তী হস্তান্তর
সাপেক্ষে অজাত ব্যক্তির
বরাবরে দান
করা হলে দানকে অবশ্যই দাতার
অবশিষ্ট
সমগ্র স্বত্ব সম্পেকে হতে হবে । ১৮৮২
সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ২০
ধারায় অজাত ব্যক্তির কায়েমী স্বত্র
সম্পর্কে বলা হয়েছে, উক্ত
ধারা অনুসারে-যখন কোন
সম্পত্তি হস্তান্তর করে এমন কোন
ব্যক্তির অনুকূলে স্বত্ব সৃষ্টি করা হয়,
যে ব্যক্তি তখনো জন্মগ্রহণ করেনি, তখন
হস্তান্তরের শর্তে বিপরীত সংকল্প
প্রতীয়মান না হলে, জন্ম গ্রহণের পর
উক্ত
ব্যক্তি কায়েমী স্বত্ব লাভ করবে,
যদি তার ভোগদখল জন্মগ্রহণের
অব্যবহিত পর হতেই শুরু না হতে পারে ৷
এই
ধারায় কোন অজাত ব্যক্তির স্বত্ব তার
জন্ম লাভের সাথে কায়েম হয়।
যে ক্ষেত্রে হস্তান্তরের মাধ্যমে,
এমন
কোন ব্যক্তির অনুকূলে স্বত্ব
সৃষ্টি করা হয় সে ব্যক্তি তখনো জন্ম
লাভ করেনি, সেক্ষত্রে হস্তান্তরের
শর্ত হতে বিপরীত কোন উদ্দেশ্য
প্রতীয়মান না হলে, উক্ত ব্যক্তি জন্ম
গ্রহণের পরই স্থায়ী স্বত্ব লাভ করবে।
কিন্ত হস্তান্তরের দলিলে যদি এ
ধরনের কোন শর্ত যুক্ত করা হয় যে,
অজাত
ব্যক্তি একটি বিশেষ বয়ঃসীমায়
উপনীত হওয়ার পর স্বত্বের অধিকার
লাভ
করবে, তাহলে উপরোক্ত সাধারণ
নিয়মটি প্রযোজ্য হবে না। অর্থাত্
হস্তান্তরের শর্ত হতে বিপরীত কোন
উদ্দেশ্য প্রতীয়মান হলে, নিয়মটির
ব্যতিক্রম ঘটবে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১৮৮২
শর্তাধীন শর ্তঃ ধারা ২১,
মোতাবেক
যখন কোন সম্পত্তি হস্তান্তর করে এমন
ব্যক্তির অনুকুলে এই শর্তে স্বত্ব
সৃস্টি করা হয় যে, কোন নির্দিষ্ট
অনিশ্চিত ঘটনা ঘটলে বা কোন
নির্দিষ্ট অনিশ্চিত
ঘটনা না ঘটলে উক্ত
স্বত্ব উক্ত ব্যক্তির উপর বর্তাবে, তখন
উক্ত
ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তিতে স্বত্ব লাভ
করে।
আগের
ক্ষেত্রে ঘটনাটি ঘটলে এবং পরবর্তী
ক্ষেত্রে ঘটনাটি ঘটা অসম্ভব
হয়ে পড়লে এরকম স্বত্ব কায়েমী স্বত্ব
বলে গন্য হবে।
ব্যতিক্রমঃ যখন কোন
সম্পত্তি হস্তান্তরের ফলে কোন
ব্যক্তি একটি নিদির্ষ্ট বয়ঃসীমার
পৌঁছানোর পর উক্ত
সম্পত্তিতে স্বত্ববান হয় এবং তার উক্ত
বয়সসীমায় পৌঁছানো না পর্যন্ত
সময়ের
জন্য উক্ত সম্পত্তিতে স্বত্ববান হয়
এবং তার উক্ত বয়সসীমায়
না পৌঁছানো পর্যন্ত সময়ের জন্য উক্ত
স্বত্ব হতে যে আয় হবে তার সম্পূর্ণ
বা প্রয়োজনীয় অংশ
দাতা তাকে তার সুবিধার জন্য
শর্তহীনভাবে প্রদান করেন, তখন উক্ত
স্বত্ব শর্তধীন স্বত্ব বলে গন্য হবে না।
জীবনস্বত্ব সংরক্ষণ অর্থাত্ মৃত্যুর আগ
পযন্ত
সংরক্ষণ
জীবনকালে সম্পত্তির আয়-উপার্জন
ভোগ করার অধিকার সংরক্ষিত
করে দাতা কোন সম্পত্তি দান
করলে উক্ত দান অবৈধ হবে না। এই
নীতিটি লালা সিং বনাম গুর
নারায়ণ মামলায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ক তার
কন্যার
বরবরে রেজিষ্ট্রী দলিলের
মাধ্যমে সাতটি দানসূত্রে হস্তান্তর
করে এবং এর মধ্যে চারটি গ্রামের
দখল
ও বুঝিয়ে দেয়। অবশিষ্ট গ্রাম
তিনটি সম্পকে শর্ত এই যে, দাতা তার
জীবদ্দশায় এই গ্রামগুলির ভোগদখল
নিজের
হাতে রাখবে এবং এগুলিকে হস্তান্তর
করার ক্ষমতা তার নেই।
পুরো দানটি বৈধ বলে আদালত রায়
প্রদান করে।
দান প্রত্যাহার
গঙ্গা বখশ বনাম জগত্ বাহদুর মামলার
(১৮৯৬) রায়ে বলা হয় যে, দান একবার
সম্পন্ন হয়ে গেলে তা দাতার উপর
বাধ্যকর হয় এবং সে উক্ত দানকে আর
প্রত্যাহার করতে পারে না।
তবে প্রতারণা, অনুচিত প্রভাব
ইত্যাদি কারণে দান
প্রত্যাহারযোগ্য
হবে।

No comments:

Post a Comment