Friday, December 24, 2021

শাকসবজীর গুণাগুণ। ডা মশিউর রহমান

করোনা কালীন সময়ে প্রতি শুক্রবার আমি শিশুখাদ্য,শিশু রোগ,শিশু স্বাস্থ্য ও শিশু যত্ন  নিয়ে লিখি এবং লিখবো ইনশাআল্লাহ 
আজকের বিষয়ঃপর্ব ৮=শাকসবজী 

সুস্থ ও সবলচিত্ত থাকতে শাকসবজি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। শাকসবজী বেশি করে খাওয়া সুস্বাস্থ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এন্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থগুলো র  বিকল্প নাই।আর সব গুলো পাওয়া যাবে সবুজ শাকসবজী তে।

পালংশাকঃ প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকায় রক্তস্বল্পতা কমায়।কোষ্ঠকাঠিন্য দুর করে। পালংশাকে প্রচুর ভিটামিন-এ বি সি ই থাকে। তাই চোখ ভাল রাখে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 

লালশাকঃভিটামিন এ সমৃদ্ধ হওয়ার চোখ ভাল রাখে।রক্তস্বল্পতা দুর করে। 

কচু শাকঃ আয়রন ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ হওয়ার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও রক্তস্বল্পতা কমায়। 

টোমেটোঃ প্রবাদ আছে প্রতিদিন একটি করে টমেটো খেলে রোগ বালাই কাছে আসতে পারে না। ভিটামিন-এ থাকায় দৃষ্টি শক্তি ঠিক রাখে।ভিটামিন-সি থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ক্যালসিয়াম দাঁতের জন্য উপরকারী। থায়ামিন হার্টকে ভালো রাখে। আয়রন ও ম্যাংগানিজ আছে। সালাদ,ভর্তা ভাজি ও তরকারি হিসেবে খাওয়ার যায়। 

গাজরঃ অত্যান্ত পুষ্টি গুন সমৃদ্ধ একটা খাদ্য।প্রচুর ক্যারোটিন ও ফসফরাস থাকায় মস্তিষ্ক ও হার্ট কে ভালো রাখে। হালুয়া পায়েস চপ ও বড়া হিসাবে খাওয়া যায়।

ফুল কপি ও বাধা কপিঃ মায়ের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে। বিটা ক্যারোটিন থাকায় কোলেস্টেরল কমায় ফলে হার্টকে সুস্থ রাখে। এন্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে বিষাক্ত টক্সিন দুর করে। বাধা কপি শিশু র  রিকেট প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 
আয়োডিন থাকায় গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধ এ সাহায্য করে। ফুল কপি মাছের তরকারি, পোকড়া হিসাবে রান্না করে খাওয়া যায়। সিংড়া ফুলরি খুবই সুস্বাদু। 

শিমঃশক্তিদায়ক একটা খাবার।শিমের বীচিতে প্রচুর ফাইবার ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম থাকে। 

করোলাঃডায়াবেটিক রোগীদের মহা ঔষুধ। ক্ষিদা বাড়ায় ও কৃমি নাশক।ভিটামিন-এ সি থাকায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও চোখ ভাল রাখে।

বেগুনঃ বাচ্চাদের ক্ষিদা বাড়ায়। আয়রন কার্বোহাইড্রেট ফ্যাট ও প্রোটিন আছে। 

পটলঃহার্টের শক্তি বাড়ায়। কোলেস্টেরল কমায় ব্লাড সুগার কমাতে সাহায্য করে। 

মুলাঃ ভিটামিন-এ বি সি  ক্যালসিয়াম ফাইবার ও প্রচুর পানি আছে। রুচি বর্ধক ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। 

লাউঃ ডালের সাথে রান্না করা যায়। পায়েস হালুয়া ও মোরাব্বা তৈরী করা যায়। এতে আছে ভিটামিন-সি বি আয়রন, চর্বি ও ফ্যাট। কোষ্টকাঠিন্য দুর করে।শরীর ও মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখে।

মিষ্টি কুমড়াঃ প্রচুর ভিটামিন-এ থাকায় রাত কানা দুর করে।স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ সাহায্য করে। 

ঢেড়সঃ আয়োডিন থাকায় গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও ভিটামিন-এ ক্যালসিয়াম ও আয়রন আছে।

কাচা কলাঃ এটা রোগীর পথ্য হিসেবে খাওয়া হয়।ডায়রিয়ায় ও আমাশয় ভালো কাজ করে। 

আলুঃ এতে আছে ভিটামিন-এ সি,প্রোটিন কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালসিয়াম।মাছ গোশত র তরকারী হিসাবে ব্যাবহার করা যায় এছাড়া ভর্তা, কাবাব ও চাটনি হিসাবেও সুস্বাদু। 

লাইক কমেন্ট করবেন, প্রশ্ন করবেন  ও শেয়ার করুন।
দোয়া করবেন। 
ধন্যবাদ। 
ডাঃ মোঃ মশিউর রহমান 
শিশু বিশেষজ্ঞ 
রোগমুক্তি ক্লিনিক গোলকুঠি দিনাজপুর 

No comments:

Post a Comment